গলাচিপায় চোরাই মহিষ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতার অপপ্রচার: সাংবাদিকদের ফাঁসানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
- Reporter 12
- 04 Oct, 2026
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম হয়রানি, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। একটি চোরাই মহিষ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার উসকানিতে কৃত্রিম ‘মব’ সৃষ্টি করে উল্টো সাংবাদিকদের এই ঘটনার সাথে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন মহল। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণী:
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে একটি চোরাই মহিষ আটক এবং তা কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির খবর পেয়ে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক। সেখানে উপস্থিত যুবকদের কাছে সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে চাইলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জহির, আরিফ ও সাদ্দামসহ তাদের সহযোগীরা হুট করেই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।
সাংবাদিকেরা পেশাগত তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে যাওয়ার কথা স্পষ্ট করলেও ছাত্রদল নেতা জহির ও তার দলবল কোনো কথা শুনতে নারাজ ছিলেন। তারা উল্টো সাংবাদিকদের ওপরই মহিষ চুরির দোষ চাপাতে শুরু করেন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অজুহাত তুলে কৃত্রিম ‘মব’ বা জনরোষ তৈরির চেষ্টা চালান।
পুলিশের ভূমিকা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে স্থানীয় কোনো বয়স্ক ব্যক্তি বা উপস্থিত সাধারণ জনতা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। তবে ছাত্রদল নেতা জহির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ দু’জন সাংবাদিককে থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভিত্তিহীন অভিযোগে তাদের আদালতে চালান দেওয়া হয়।
অথচ যাঁর কাছ থেকে মহিষটি উদ্ধার করা হয়েছিল, তিনি সরাসরি ও জনসমক্ষে স্পষ্ট জানিয়েছেন—উক্ত সাংবাদিকেরা এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড বা দাপ্তরিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি অভিযুক্ত মহলটি।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয়দের মতে, মূল অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই ছাত্রদল নেতা জহির উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছেন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত জঘন্য ও স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। অবিলম্বে নিরপরাধ সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ষড়যন্ত্রকারী ছাত্রদল নেতা জহিরসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদক:
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
দৈনিক জীবন বাংলা নিউজ
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *






